Logo
নোটিশ :
সারাদেশের জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭০৭-৬৫৫৮৯৪    dailyekushershomoy@gmail.com
সাকিব নিয়মিতই খেলবেন, কলকাতা অধিনায়কের কথায় ইঙ্গিত

সাকিব নিয়মিতই খেলবেন, কলকাতা অধিনায়কের কথায় ইঙ্গিত

অনলাইন ডেস্ক //

সাকিব আল হাসান আবার ফিরেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে। ৬ মৌসুম খেলার পর কলকাতা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল। ২০১৮ আর ২০১৯—এই দুটি আইপিএল সাকিব খেলেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। গত মৌসুমটা নিষিদ্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই আইপিএল থেকে দূরে ছিলেন তিনি। এবার কলকাতায় ফিরেছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। এবার নিজেদের পুরোনো সৈনিককে কলকাতা যে যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করেই ফিরিয়েছে, সেটি বোঝা যায় কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক এউইন মরগানের কথাতেই। আজ নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে মরগান জানালেন সাকিবকে নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা।

আইপিএলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলাতে পারে কোনো দল। কলকাতার অধিনায়কত্ব করছেন মরগান। সেই হিসেবে ধরে নেওয়াই যায়, একাদশে তাঁর জায়গা একেবারে পাকা। এ ছাড়া প্যাট কামিন্সকে গতবার রীতিমতো অর্থের বন্যা বইয়ে কিনে আনা হয়েছিল। এবারও তিনি দলে আছেন। তাঁকেও একাদশে রাখার কথা ভাবছে কলকাতা, এটা নিশ্চিত। বাকি রইলেন সুনীল নারাইন, আন্দ্রে রাসেল, লকি ফার্গুসন, টম সেইফার্ট, বেন কাটিং ও সাকিব আল হাসান। এতজন বিদেশির ভিড়ে সাকিব কি দলে জায়গা পাবেন? কলকাতার প্রথম ম্যাচের আগে প্রশ্নটা জাগছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের মনে।

মরগানের কথা শুনলে মনে হতেই পারে সাকিবকে খেলাবেন, এমনটা ভেবেই দলে নেওয়া হয়েছে। সাকিবের অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স এ ক্ষেত্রে যে বড় ভূমিকা রেখেছে, সে কথা বলাই যায়, ‘আইপিএল খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা টুর্নামেন্ট। এ ধরনের টুর্নামেন্টে নির্দিষ্ট আচরণের ক্রিকেটার খুব প্রয়োজন। এমন ক্রিকেটার প্রয়োজন, যারা প্রতিটি ম্যাচেই প্রায় একই ধরনের খেলা খেলেন। সাকিব আল হাসান কিংবা সুনীল নারাইন সে ধরনেরই চরিত্র। দল বিপদে পড়লে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তাদের হাতে বল তুলে দেওয়া যায়।’

কলকাতা অধিনায়ক মনে করেন, দলে সাকিব আসায় বৈচিত্র্য বেড়েছে যথেষ্ট, ‘আইপিএলে ভারতের বিভিন্ন শহরে খেলা হবে। সব মাঠের চরিত্র এক নয়। পরিবেশও এক নয়। সাকিব দলে আসায় বৈচিত্র্য বেড়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে তো বটেই, আইপিএলেও অনেক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আছে তার। সাকিবের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় দল। আশা করি, নিরাশ হব না।’

সাকিবকে যখন কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নিল, তখনই অনেকে বলাবলি করছিলেন তিনি আদৌ প্রথম একাদশে সুযোগ পাবেন কি না। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের অলরাউন্ডারকে বিশেষ প্রয়োজনে নিয়মিত খেলাতেই এবার কলকাতা তাঁকে দলে ভিড়িয়েছে। ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে তো রীতিমতো যুক্তি দিয়েই বলেছেন, সাকিবকে কলকাতা এবার কেন নিয়মিত খেলাবে। তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে তাঁকে ৩ নম্বরে ব্যাটিং করানোর কথাও বলেছেন। ভোগলে সাকিবের পক্ষে সবচেয়ে বড় যে যুক্তি দিয়েছেন, সেটি হচ্ছে ২০১৯ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স।

সাকিব ৩ নম্বরে যে বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন, সর্বশেষ বিশ্বকাপে সাকিবের পারফরম্যান্স সেটিরই প্রমাণ। সেখানে বাংলাদেশের হয়ে খেলা ৮ ম্যাচের ৭টিতেই তিনি ৫০ ছাড়ানো ইনিংস খেলেছিলেন সাকিব। পেয়েছিলেন ২টি সেঞ্চুরি, ৫টি ফিফটি। ৮৭ গড়ে তিনি করেছিলেন ৬০৬ রান।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের একটা বড় দুর্বলতাও সাকিবকে দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায়। গৌতম গম্ভীর, রবিন উথাপ্পাদের বিদায়ের পর থেকেই তাদের টপ অর্ডার দুর্বল। এ দুর্বলতা কলকাতাকে গতবারও ভুগিয়েছিল। নারাইনকে দিয়ে টপ অর্ডারের দুর্বলতা ঢাকার একটা চেষ্টা দু–এক মৌসুম ধরে করে আসছে কলকাতা। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থই বলা যায়। নারাইন দিন দিন তাঁর কার্যকারিতা হারিয়েছেন। এবার হয়তো নারাইন দলে তাঁর অপরিহার্যতাও হারাবেন, যদি সাকিব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেকে দলে নারাইনের চেয়ে বেশি অপরিহার্য করে তুলতে পারেন!

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *