Logo
নোটিশ :
সারাদেশের জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭০৭-৬৫৫৮৯৪    dailyekushershomoy@gmail.com
হিজলায় ইউএনও’র নাম ভাঙ্গিয়ে চৌকিদার কর্তৃক মিষ্টির দোকানে চাঁদা দাবি।

হিজলায় ইউএনও’র নাম ভাঙ্গিয়ে চৌকিদার কর্তৃক মিষ্টির দোকানে চাঁদা দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক //

বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের টেকেরহাট নামক বাজারের দুটি মিষ্টির দোকান তামিম মিষ্টান্ন ভান্ডার এবং মোল্লা মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে ৮৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় চৌকিদার মোহাম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে গিয়ে উক্ত বাজার কমিটির সভাপতি এবং উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের সাথে আলাপকালে ও উক্ত মিষ্টির দোকানদারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গত ১৪/০৪/২০২১ ইং বিকাল বেলা তামিম মিষ্টান্ন ভান্ডার’র পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এর কাছে স্থানীয় চৌকিদার মোহাম্মদ উল্লাহ একটি ফোন ধরিয়ে দেন। যাহার নাম্বার (০১৬১০৪৭২৯১৮)।

এবং বলেন যে ইউএনও স্যার আপনার সাথে কথা বলবে তখন সালাউদ্দিন ফোনটি কানে দিয়ে দেখে ও প্রান্ত থেকে একটি অজ্ঞাত নাম্বারে নির্বাহী কর্মকর্তা’র পরিচয় দিয়ে তার কাছে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার টাকা) চাঁদা দাবি করে বিনিময়ে তিনি রমজান মাসে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ খাবার পরিবেশন করেন এই মর্মে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিবে বলে আশ্বাস প্রদান করে।

তখন ভুক্তভোগী সালাউদ্দিন বলে স্যার এখন বেচা কেনা নাই লকডাউন এর ভিতর এত টাকা আমি কোথা থেকে দেবো। তারপরে ফোনের  ওপ্রান্ত থেকে বলে তাহলে আপনি কত দিতে পারবেন পরে ১০,০০০/- (দশ হাজার টাকা) দেওয়ার সমযোতা হয়। একই কায়দায় উক্ত বাজারের আরেকটি মিষ্টির দোকান মোল্লা মিষ্টান্ন ভান্ডার’র মালিক লাদেনের এর কাছে একই কৌশলে ৬৫,০০০/- (পয়ষট্টি হাজার টাকা) চাঁদা দাবি করা হয়। তিনিও একই কায়দায় ২০,০০০/ (বিশ হাজার টাকা) দিতে রাজি হন। তখন তাদেরকে একটি বিকাশ নাম্বার দেওয়া হয় তার মাধ্যমে টাকা পাঠানোর জন্য বলা হয়। তখনো তারা বুঝতে পারেনি যে এটি একটি প্রতারক চক্র।

পরে মিষ্টির দোকানদার লাদেন ব্যাপারটি পার্শ্ববর্তী ঔষধ ব্যবসায়ী জসিম মোল্লার কাছে শেয়ার করে। তখন জসিম মোল্লা তাদেরকে বলে আগে যাচাই করে নেও একজন নির্বাহী কর্মকর্তা কখনো ফোনের মাধ্যমে কারো কাছে চাঁদা দাবি করবে না এটি একটি প্রতারকচক্র।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চৌকিদার মোহাম্মদ উল্লাহর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আমাকে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে আমাকে বলছে তাদের কাছে ফোনটি ধরিয়ে দিতে।  আমি ধরিয়ে দিয়েছি এটাই আমার অপরাধ।

 

একজন নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আপনাকে ফোন ধরিয়ে দিলো আর আপনি যাচাই-বাছাই না করে তাদের কাছে ধরিয়ে দিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ উল্লাহ চৌকিদার বলেন, ইউএনও’র অফিসিয়াল নাম্বার আমার চেনা কিন্তু পার্সোনাল নাম্বার ভেবে আমি ভাবছিলাম ইউএনও স্যারই হবে। তাই আমি আর যাছাই বাছাই করার প্রয়োজন মনে করি নি।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এরকম একটি অভিযোগ আমি শুনেছি তবে ওই ব্যবসায়ীদের সাথে আমি ফোনে কথা বলেছি এবং নিষেধ করে দিয়েছি ভবিষ্যতে যদি এরকম কেউ আমার নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করে তাহলে আমাকে অন্তত জানাবেন।

অজ্ঞাত নাম্বারটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা এবং অভিযুক্ত চৌকিদার মোহাম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে নিবার্হী কর্মকর্তা বলেন, আপাতত ওই চৌকিদারের বেতন আটকে দিয়েছে।

 

তবে সচেতন মহলের দাবি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেখানে দুই ঘন্টার ভিতরে অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব।কিন্তু এই ঘটনাটি আজ ১১ দিন অতিবাহিত হলেও ইউএনও কোন কর্যকরি পদক্ষেপ নেননি কেন আমাদের বোধগম্য নয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *