Logo
নোটিশ :
সারাদেশের জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭০৭-৬৫৫৮৯৪    dailyekushershomoy@gmail.com
সংবাদ শিরনাম :
বরিশাল জেলা ফেব্রিকেটরস সভাপতি নিরব- সম্পাদক মেহেদী হাচান বিপুল ভোট এ জয় লাভ করে গ্রীন ভয়েস বরিশাল বিশ্বেবিদ্যালয়ের শাখার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ। হিজলায় খাল বাধ দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণ, বিপাকে কয়েক শত সাধারণ কৃষক ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের মৃত্যুতে নতুনধারার শোক হিজলায় গভীর নলকূপ থেকে হচ্ছে গ্যাস নির্গতঃ গ্রীন ভয়েস গৌরনদী উপজেলা শাখার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ। বরিশালে করোনা সংক্রমন রোধে ডিসি জাকির হোসেনের মাস্ক বিতরণ মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করলেন বিএনএস সভাপতি মারুফ মল্লিক ইসি গঠনে নোংরামি করলে পতন নিশ্চিত – মোমিন মেহেদী প্রথমবার পিএসসি কোর্স সম্পন্ন করলেন ৩ পুলিশ কর্মকর্তা
মেহেন্দীগঞ্জ আ’লীগ ভারী হচ্ছে পংকজবিরোধী শিবির!

মেহেন্দীগঞ্জ আ’লীগ ভারী হচ্ছে পংকজবিরোধী শিবির!

অনলাইন ডেস্ক //

মেঘনা তীরের জনপদ বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) সংসদীয় আসনে বিভক্ত আওয়ামী লীগে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা মেরূকরণ। ২০১৪ সাল থেকে এখানে সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ। আগামী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, তার পক্ষ ত্যাগ করে এমপিবিরোধী শিবিরে ভেড়ার হিড়িক পড়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে এমপিবিরোধী শিবিরে গেলেন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মাহফুজুল আলম লিটন। গত কয়েক মাসে আরও কয়েকজন আস্থাভাজন নেতা এমপির পক্ষ ত্যাগ করেছেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে পংকজ দেবনাথ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর মেহেন্দীগঞ্জে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এমপিবিরোধী গ্রুপটি জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের কর্ণধার পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও নিরীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী) এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির সঙ্গে আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের বাসভবনে মঙ্গলবার দুপুরে সাক্ষাৎ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান লিটন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করা হয়। ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর নির্বাচনে এমপি পংকজের সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান হন মাহফুজুল আলম লিটন।

মেহেন্দীগঞ্জের সন্তান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ ও ঢাকা মহানগরের (দক্ষিণ) বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদকে নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর মেহেন্দীগঞ্জ ও ১৩ ডিসেম্বর হিজলায় বড় শোডাউন করেছেন এমপি পংকজবিরোধী নেতাকর্মীরা। এমপির আস্থাভাজন মেহেন্দীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান লিটন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন মেহেন্দীগঞ্জের সন্তান ২০০২-০৬ সাল মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত উদ্দিন খান। তিনিও স্থানীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে আগামী ৩ জানুয়ারি শোডাউন করে মেহেন্দীগঞ্জে আসবেন।

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চলতি বছরই নিহত হয়েছেন ৪ জন। গত দুই মেয়াদে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপি অনুসারীরা নৌকা প্রতীক না পেলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। ফলে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ এ পর্যন্ত ৮টি ইউনিয়নে নৌকাকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়েছেন এমপি অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

আকস্মিক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির সঙ্গে সাক্ষাতের কারণ জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান মাহফুজুল আলম লিটন বলেন, ‘তিনি (হাসানাত) আমাদের অভিভাবক। দক্ষিণাঞ্চলে দলের শীর্ষ কর্ণধার। তার সঙ্গে আমি দেখা করতেই পারি, বিএনপির কোনো নেতার কাছে তো আমি যাইনি।’ এত বছর কেন যাননি- জানতে চাইলে লিটন বলেন, করোনার কারণে নেতা (হাসানাত) ২ বছর ধরে বরিশালে আসেননি। তাই দেখাও হয়নি। মঙ্গলবার সাক্ষাতের পর ঢাকায় অবস্থানরত মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার এমপি পংকজ দেবনাথের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি বলে জানান চেয়ারম্যান লিটন।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরে এমপি পংকজের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত অনেক নেতা বিরোধী শিবিরে ভেড়েন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- মেহেন্দীগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইদুর রহমান মনির ও সোয়েব হোসেন সোহরাব, সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, লতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নেহাল হোসেন এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পারভেজ চান। পংকজবিরোধী বলয়ের নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম নেতা আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সৈয়দ মনির বলেন, পংকজের সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে তার পক্ষের নেতারা তাকে ত্যাগ করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত উদ্দিন খান বলেন, তিনি ১৯৯১-৯৩ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলায় রাজনীতি করবেন। কোনো নেতার বিরুদ্ধে নয়, দলের নির্যাতিত কর্মীদের পাশে থাকবেন।

পংকজ দেবনাথের প্রতিনিধিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলু। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে মেহেন্দীগঞ্জে আওয়ামী লীগের একটি গোষ্ঠী রয়েছে, যারা দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান, কিন্তু স্থানীয় দলীয় এমপি চান না। এতে তাদের লুটপাট ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যে সুবিধা হয়। পংকজ দেবনাথ এমপি হওয়ায় ওই গোষ্ঠীটি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তারা এমপির বিরোধিতায় নেমেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান লিটনসহ অন্যদের পক্ষ ত্যাগ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সুবিধাবাদী। এখন আরও সুবিধার আশায় নতুন জায়গায় গিয়েছেন।

এমপি পংকজ দেবনাথ বলেন, ‘মেহেন্দিগঞ্জে আওয়ামী লীগ বড় দল, এখানে নানাজনের নানা মত এক হয়েই সংগঠন শক্তিশালী হয়। এখানে আমার পক্ষে বা বিপক্ষের কোনো বিষয় নেই।’

সূত্র- সমকাল

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *