Logo
নোটিশ :
সারাদেশের জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭০৭-৬৫৫৮৯৪    dailyekushershomoy@gmail.com
সংবাদ শিরনাম :

পদ্মাপাড়ে স্বজনের আহাজারি।

পদ্মা নদীতে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে থেমে থাকা বাল্কহেডের (বালুবাহী নৌযান) সঙ্গে ধাক্কায় যাত্রী বোঝাই স্পিডবোট ডুবে গেছে। এতে ৩ শিশুসহ ২৬ জন মারা গেছেন। আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয় পাঁচজনকে। সোমবার সকাল ৭টায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ীর বাংলাবাজার পুরোনো ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, লকডাউনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্পিডবোটটি যাত্রী বহন করছিল। বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কায় এটি ভেঙে চুরমার হয়ে গেলে অনেক যাত্রী পানিতে ডুবে যান। এ কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। ঘটনার পরই স্পিডবোটটি উদ্ধার করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করা হয়েছে চালক শাহ আলমকে। মাওয়ায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় এত সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা এটাই প্রথম। কাছাকাছি সময়ে ২০১৪ সালে পিনাক-৬ লঞ্চডুবিতে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। তাদের বুকফাটা আর্তনাদে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। আহাজারিতে পদ্মাপাড়ের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। তারা খুঁজতে থাকেন স্বজনদের। এ অবস্থায় ডুবুরিরা একের পর এক মরদেহ নিয়ে তীরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। সন্তান, স্বামী, স্ত্রীর বা আত্মীয়ের লাশ পেলে সেখানেই শুরু হয় আহাজারি।

এভাবেই দুপুরের পর পর্যন্ত চলতে থাকে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের দোতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়। এখান থেকেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময়ও তাদের কান্নায় চোখ ভিজে ওঠে স্থানীয় জনগণের। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬ সদস্যের একটি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তিন সদস্যের একটি এবং বাংলাদেশ নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তর (ডিজি শিপিং) তিন সদস্যের একটি আলাদা কমিটি গঠন করেছে। ঘটনার পরই নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর আবু জাফর মো. জালাল উদ্দিন এবং বিআইডব্লিউটিএ ও ডিজি শিপিংয়ের তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

স্থানীয়রা জানান, নৌ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড দুর্ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধারে নামে। তারা নদী থেকে ২৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় ৫ জনকে। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। এদিকে সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিরাজুল হোসেনসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাঁঠালবাড়ী নৌপুলিশসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে স্পিডবোট যাত্রী বোঝাই করে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়।

সাড়ে সাতটার দিকে স্পিডবোটটি শিবচর কাঁঠালবাড়ী (পুরাতন ফেরিঘাট) ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছায়। এ সময় পদ্মা নদীতে কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে নোঙর করা বাল্কহেডের (এমভি সাফিন সায়হাম) পেছন থেকে ধাক্কা দেয় যাত্রী বোঝাই স্পিডবোট। দ্রুতগতির স্পিডবোট বাল্কহেডের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিয়ে উল্টে দুমড়ে-মুচড়ে ডুবে যায়।

যাত্রীরা ছিটকে বালু টানা কার্গোর স্টিলের গায়ে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। এতে অধিকাংশ যাত্রীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। কয়েকজন যাত্রী আঘাত পেয়েও ভেসে থাকে। খবর পেয়ে নৌপুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পরে কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস নৌপুলিশ যৌথভাবে অভিযানে নামে। দুপুরের আগেই তারা ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান। আহতদের একজন স্পিডবোটের চালক শাহ আলম। পুলিশ তাকে হাসপাতাল থেকে আটক করেছে। দুর্ঘটনা কবলিত স্পিডবোটে কতজন যাত্রী ছিল তার সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও একটি সূত্র জানায় ওই বোটে চালকসহ ৩২ জন ছিল।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ শুনে আমরা ঘটনাস্থলে এসে প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের সাথে কথা বলি। লকডাউনের মধ্যে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকলেও শিমুলিয়া ঘাটের কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে যাত্রী পারাপার করেছে স্পিডবোট। যাত্রীদের কাছ থেকে দেড়শ টাকার ভাড়া তিনশ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

তিনি জানান জীবিত উদ্ধার ৩ জন যাত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বেপরোয়াভাবে স্পিডবোট চালিয়েছে। নদীর মধ্যেও একবার দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু ঘাটে এসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে গেল। স্পিডবোটের জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রী আদুরি বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, মায়ের লাশ দেখতে যাচ্ছিলাম।

এখন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে আমাকে ফিরে যেতে হচ্ছে। কান্না করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে ঢাকায় আটকা পড়েছিলাম। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিচলিত হয়ে গ্রামে ফিরছিলাম। দেড় বছরের সন্তান ইয়ামিন আমার কোলে ছিল। স্পিডবোট অতিরিক্ত গতিতে চলছিল।

আমি এক হাতে ছেলে ও আরেক হাতে স্বামীকে ধরেছিলাম। হঠাৎ সজোরে ধাক্কা খেয়ে সবাই ছিটকে পড়ি। আমি জ্ঞান ফিরে দেখি হাসপাতালে। সাথে সাথে নদীর পাড়ে ফিরি। ততক্ষণে স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর পাই। আদুরির চাচা বলেন, বাড়িতে একটি কবর খুঁড়ে রেখে এসেছি। ফোনে আরো দুটি কবর প্র

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *