Logo
নোটিশ :
সারাদেশের জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭০৭-৬৫৫৮৯৪    dailyekushershomoy@gmail.com
সংবাদ শিরনাম :
হিজলায় কোস্টগার্ডের মাঝি সুলেমানের বিরুদ্ধে জেলেদের সর্বস্ব লুট করার অভিযোগ! জানা নেই সিসি’র।

হিজলায় কোস্টগার্ডের মাঝি সুলেমানের বিরুদ্ধে জেলেদের সর্বস্ব লুট করার অভিযোগ! জানা নেই সিসি’র।

নিজস্ব প্রতিবেদক //

বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় গতো ০৫/০৫/২০২১ ইং রোজ বুধবার বেলা ০২ঃ৩০ মিনিটে মেঘনার বুকে হিজলার কোস্টগার্ডের মাঝি সুলেমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয় বলে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযান পরিচালনার সময় অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারের অপরাধে ধাওয়া দিয়ে দুটি মাছ ধরার নৌকা ধরতে সক্ষম হয় সুলেমান ও তার সঙ্গীরা।

পরে ট্রলার দুটি কে আটক করতে সক্ষম হলেও মাঝি-মাল্লারা সাঁতরে, দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এসময় আটককৃত ট্রলার থেকে যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায়। ডিজেল, হ্যান্ডেল, দুটি সিলাইরেন্স , দুটি পাখা , বৈঠা, টর্চলাইট তিনটি, এবং বিভিন্ন প্রজাতির ৮০ কেজি মাছ ও জেলেদের ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন।

অভিযানিক টিমের ডিউটিরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শুধু অবৈধ কারেন্ট জাল ও জব্দকৃত মাছের ব্যাপারে অবগত থাকলেও বাকি মালামাল তাদের অজান্তে মাঝি সোলেমান ও তার সহযোগি আলামিন লুট করে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ সরকার মৎস্য অধিদপ্তর অবৈধ কারেন্ট জাল এর উপরে সার্বক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

সে ক্ষেত্রে প্রশাসন অবৈধ কারেন্ট জাল এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাবে এটাই স্বাভাবিক।

এক্ষেত্রে জব্দকৃত জাল মাছ এবং অন্যান্য মালামাল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পেশ করবে বিধি অনুযায়ী এই নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও অভিযানিক টিমের মাধ্যমে জব্দকৃত জাল এবং অন্যান্য মালামাল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে।

কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা হয়নি কারণ জব্দকৃত মালামাল মাছ এগুলা হিজলা কোস্টগার্ডের সিসি মাহবুব পিওকে না জানিয়ে মাঝির নেতৃত্বে সব গায়েব করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে হিজলা কোস্টগার্ডের সিসি মাহবুব পিও এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, নদীতে আমাদের অভিযানিক টিম অবৈধ মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী এবং অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এবং উক্ত অভিযোগ এখনও অবদি তার কাছে আসে নি, এবং সিসি’র দাবি ওই দিন তাদের কোস্টগার্ড কোন অভিযানে যায় নি, তবে কারা এমন অভিযান দিয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে সিসি মাহাবুব জানান, তা আমি জানি না, আমার জানা নাই।

এ ব্যাপারে হিজলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, তিনি এমন কোন অভিযোগ পান নি, তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

কিন্তু গতকালকে মেঘনায় আমাদের অভিযানের টিম দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আমি ছিলাম না কিন্তু এধরনের কোন মাছ জাল বা মালামাল জব্দের ঘটনা আমার জানা নেই এবং এ ব্যাপারে আমাকে জানানো হয়নি।

তবে ভুক্তভোগী জেলে নৌকার মাঝি মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন মোল্লা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, আমি গত কালকে তিনটার দিকে মাঝ নদী থেকে মাছ শিকার করে কিনারায় আসতে ছিলাম। এসময় হিজলা কোস্টগার্ড আমাদেরকে ধাওয়া করে তখন আমরা ট্রলারটি কুলে চাপিয়ে দিয়ে স্থলপথে পালিয়ে যাই। তারপর অভিযানের ট্রলার চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে নৌকায় ফিরে এসে দেখি জাল মাছ তো নিয়ে গেছেই এবং আমার নৌকাটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে ক্ষান্ত হয়নি তারা টলারে থাকা যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আর আমরা তো কোন অবৈধ মাছ শিকার করিনি আমরা বিভিন্ন প্রজাতির হাছড়া মাছ যেমন বাটা, বাইল্লা,পোয়া মাছ ধরেছি আর এসকল মাছের উপর তো কোন সরকারের নিষেধাজ্ঞা নেই। তাহলে কেন আমাদের উপরে এত জুলুম করা হয়।

এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন যারা ওই নদীতে মাছ শিকার করেন তারা হলেন জাহাঙ্গীর বেপারী, রফিক রারি, রাজ্জাক মোল্লা, মনির সরদার, হারুন,নাম না জানা আরও অনেকে।

এদের অভিযোগ হিজলার কোস্টগার্ড সুনামের সাথে দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্ব পালন করে আসছে কিন্তু এই জসিম সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কারণে বিভিন্ন সময় তারা কলঙ্কিত হচ্ছেন। এর আগে পর্যায়ক্রমে এই জসিম সিন্ডিকেটের পরিবারের বিভিন্ন লোকজন হিজলা কোস্ট গার্ডের মাঝির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মেঘনা বিভিন্ন অপকর্ম ও দুর্নীতির কারণে তাদের সকলের চাকরি চলে গেলও এই সিন্ডিকেট চক্র আবার হিজলা কোস্টগার্ডের মাঝির দায়িত্বে আবির্ভাব। তাই নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে হিজলার মেঘনা নদীর সাধারণ জেলেদের মাঝে।

তাদের দাবি কোস্টগার্ডের মাঝির চাকরির ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রমাণ নিয়ে সৎ লোক নিয়োগ দেওয়া দরকার। কিন্তু সেটা না করে বারবার এই সিন্ডিকেট চক্রই দায়িত্ব পালন করেছেন হিজলার কোস্টগার্ডের মাঝির।
তাহলে কি হিজলার কোস্টগার্ড এই জসিম সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি..??
প্রশ্ন সাধারণ জেলেদের।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *