Logo
নোটিশ :
সারাদেশের জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭০৭-৬৫৫৮৯৪    dailyekushershomoy@gmail.com
সংবাদ শিরনাম :
বাকেরগঞ্জ থেকে বরিশালে ঘুরতে যাওয়ার পথে দপদপিয়া সেতুতে বাসচাপায় প্রাণ গেল ৩ বন্ধুর! ছন্দে ফিরেছে বরিশালের কাপড় ও টেইলার্স ব্যবসায়ীরা বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেহেন্দিগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন সম্পন্ন। নজরুল সভাপতি / জিতু সম্পাদক বরিশালে দশম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণ, ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামি প্রকাশ্যে ঘুরছে এলাকায়। মেহেন্দিগঞ্জের চরগোপালপুর ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার প্রচারণা চট্টগ্রামের গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানী বেড়েছে …………..-যাত্রী কল্যাণ সমিতি চিকিৎসক-কর্মচারীরা জড়াচ্ছেন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসায় বরিশালে সেতুর উপরে বাসচাপায় প্রাণ গেল বাকেরগঞ্জের স্কুল শিক্ষার্থী তিন বন্ধুর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের ২৯ তম মৃত্য বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা হিজলায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিতঃ
এইচএসসি ডিসেম্বরে এসএসসি নভেম্বরে।

এইচএসসি ডিসেম্বরে এসএসসি নভেম্বরে।

অনলাইন ডেস্কঃ
করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ক্লাস বাতিল করেছে।

এর পরিবর্তে কেবল নৈর্বাচনিক বিষয়ের ওপর তাদের অ্যাসাইনমেন্ট করানো হবে। এসএসসিতে অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে ২৪টি আর এইচএসসিতে ৩০টি।

বাংলা-ইংরেজির মতো আবশ্যিক এবং চতুর্থ (অতিরিক্ত) বিষয়ে কোনো অ্যাসাইনমেন্ট করানো হবে না। আর পরিস্থিতি অনুকূলে এলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর এইচএসসি পরীক্ষা হবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। এ সময় তিনি বলেন, এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় আবশ্যিক বিষয়গুলো যেমন-বাংলা, ইংরেজি, গণিত, আইসিটি ও ধর্ম বিষয়ে অধ্যয়ন করেছে। এই বিষয়গুলো ওইসব পরীক্ষায় মূল্যায়ন করা হয়েছে।

এসএসসি/সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গ্রুপভিত্তিক বিষয়গুলোয় ইতঃপূর্বে বোর্ডগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করেনি। সে কারণে এই বিষয়গুলোর মূল্যায়ন আবশ্যক।

তাছাড়াও আবশ্যিক বিষয়গুলোর নম্বর জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পর্যায়ে নম্বর দেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনের উচ্চতর পর্যায়ে নৈর্বাচনিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেজন্য অ্যাসাইনমেন্ট করানোর পাশাপাশি পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে না এলেই সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সার্বিক ফল তৈরি করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে চলতি বছরের এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষাগুলো নেওয়ার কথা ছিল। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় পরীক্ষা নেওয়া যায়নি।

পরে ‘কাস্টমাইজ’ (সংক্ষিপ্ত) সিলেবাসের আলোকে এসএসসিতে ৬০ আর এইচএসসিতে ৮৪ কর্মদিবস পাঠদান শেষে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের।

সেটাও সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের প্রস্তুতি ছিল। এর অংশ হিসাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে বিজি প্রেসে ট্রাংকবদ্ধ করে রাখা আছে। আর এইচএসসি ও সমমানের প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সরকার চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তখন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিশোধনের কাজ আটকে যায়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএম আমিরুল ইসলাম দৈনিক একুশ বলেন, ছাপানো প্রশ্নেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। যে কারণে প্রশ্নের বিকল্প সংখ্যা আগের মতোই থাকবে। কিন্তু উত্তর দিতে হবে অর্ধেক প্রশ্নের। অর্থাৎ, আগে যেখানে এমসিকিউ ৩০টি ছিল, এখন সেখানে ১৫টির উত্তর দিতে হবে।

আর সিকিউ (সৃজনশীল প্রশ্ন) উত্তর করতে হবে ৩-৪টি। তেমনি তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দেড় ঘণ্টা আর দুই ঘণ্টার পরীক্ষা এক ঘণ্টা নেওয়া হবে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের প্রতিটিতে নৈর্বাচনিক তিন বিষয়ে নেওয়া হবে পরীক্ষা।

অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষা উভয়টিই কাস্টমাইজড (সংক্ষিপ্ত) সিলেবাসের আলোকে নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্টগুলো ঠিকমতো তৈরি বা অনুশীলন করলে তাদের পরীক্ষাও ভালো হবে। কেননা, অ্যাসাইনমেন্ট অনুসরণেই পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবে পরীক্ষার সময় এবং পূর্ণমান অর্ধেক করা হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রে উত্তর দেওয়ার বিকল্প প্রশ্নসংখ্যা বেশি থাকবে। অর্ধেক নম্বরে বা এমসিকিউ ও সিকিউ মিলিয়ে ৫০ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হলেও তা ১০০ নম্বরে রূপান্তর করে পরীক্ষার ফল দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, যারা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী, তাদের ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য হবে। যারা মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী, তারা যদি আবশ্যিক বিষয়ে ফরম পূরণ করে, তাহলে তাদেরও আগের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে গ্রেড দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে আছে।

তাই সংগত কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ মুহূর্তে খোলা যাবে না। এটা দুই কারণে-প্রথমত, এই পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি যেভাবে আছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তো আছেই। দ্বিতীয়ত, প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৩ লাখ শিক্ষক আছেন। তাদের মধ্যে কতজনকে টিকা দেওয়া গেছে।

শিক্ষকদের যদি আমরা ফ্রন্টলাইনার হিসাবে বিবেচনা করি, তাহলে বলা যায়, স্কুল-কলেজ খুলে দিলে কাজ করতে গিয়ে তারা সংক্রমিত হয়ে যেতে পারেন। টিকা না দিয়ে তাকে ক্লাসরুমে যেতে বলার অধিকার আমার নেই। সুতরাং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যথাযথ প্রস্তুতিসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রয়োজন আছে।

এমন বাস্তবতায় সরকার পরীক্ষা এবং শিখনফল অর্জনের লক্ষ্যে যে ঘোষণা দিয়েছে একে স্বাগত জানাই। ফলে সবচেয়ে বড় যে লাভটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ কমে যেতে পারে। লেখাপড়া ও পরীক্ষা নিয়ে কমপক্ষে একটা প্রক্রিয়া ও পন্থা তারা দেখালেন। তবে কিছু বিষয়ে সরকারকে জোরালো নজর দিতে হবে। প্রথমত, যেসব বিষয়ে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে, সেগুলো সবই ঐচ্ছিক বিষয়। এগুলোর মধ্যে আছে বিজ্ঞানের বিষয়। বিজ্ঞানে ব্যাবহারিক আছে।

ব্যাবহারিকের বিষয়ে কী হবে? এর ওপর তো নম্বর আছে। আমি মনে করি, বিজ্ঞানে ব্যাবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন। ব্যাবহারিক না করানো হলে বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় গিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

দ্বিতীয়ত, অ্যাসাইনমেন্ট যে দেওয়া হবে, সেটা কতটা নৈর্ব্যক্তিক করা হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *